কবিতাঃ সুমন ধারা শর্মা

 আবহে

মাটি খুঁড়লেই এক অশ্বারোহী বেরিয়ে পড়ে।

শ্বেতশুভ্র অশ্ব। যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

ঈষৎ অপ্রস্তুত হয়ে বলি, যুদ্ধ?

অবজ্ঞার হাসি ধুলো হয়ে যায়।

বোকার মত দাঁড়িয়ে থাকি।

আকাশ ভেঙে বৃষ্টি আসে।

প্রত্যাশিত।

পরিচিত উদাহরণ হাসতে হাসতে আসে।

বলে, ভাল আছ?

জিজ্ঞেস করি, কে তুমি? শালীনতার মুখোশের আড়ালে...?

সে হাসে। সেটাও অবজ্ঞার হাসি।

তারপর মিলিয়ে যায়।

এখন বৃষ্টি থেমে গেছে।

অশ্বারোহীরা আবেগের যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে আসছে।

নীলচে আলোয় বসে আছি।

 

পতাকার মতো উড়ছে চিঠি, গন্ধ, বর্ণ, বিবর্ণ

ইতিহাসের পাতা, শ্রেণীবিভাজন, কোরাস, বসন্ত-

উড়ছে আমার পাঠক্রম, বিশ্বাস, অবহেলা ও

ভবিষ্যতের গন্তব্য...

আজ এসময়ে

 

বন্ধকক্ষে বসে আছি।

কাশছি। মগ দিয়ে জল ঢালছি।

চা খাচ্ছি। দৈবাৎ হেসে উঠছি নিজের মনেই।

বেশ আছি। ভাল আছি।

বাজারের দিকটা অন্ধকার।

আজ আর কেউ বসেনি। নতুন ইলিশও আসে না

এদিকটায়।

ভীত, সন্ত্রস্ত মানুষ বিভেদে যাচ্ছে।

কাউকেই চেনা যাচ্ছে না।

এমত অবস্থায় কুচকাওয়াজ হয় না।

কোরাসও গাওয়া যায় না।

ভালবাসা যায় না কাউকেই।

 

বন্ধকক্ষে বসে আছি। স্বেচ্ছা নির্বাসন।

আমি ও আমার বেঁচে থাকার একান্ত ইচ্ছে।

আমি তো তাকে ত্যাগ করতে পারি না।

 

মুছে দাও পরিচিত মুখ। মুখ লুকোতে লুকোতে ল্যাম্পপোস্ট হয়ে যাব।

হাওয়া দাও।

বাতিটা দুলে দুলে উঠুক।

লোডশেডিং হলে ঘরের ভেতরটা বড্ড অন্ধকার লাগে।

সে সময়ে এসো। কথা আছে। বুঝি কাব্য!

অচেতন। স্ফটিক সেই সব কথা। সেই সব।

নেগেটিভ প্রিন্টগুলো অলিতে গলিতে ফিরে যায়।

বৃষ্টি নেই। ঝড় নেই। শ্যাওলা নেই।

শুধু নেগেটিভ। শুধু নেগেটিভ।

প্যান্ডেল থেকে বাঁশ খুলে পড়ে।

রং চটে যাওয়া মুখ ঝুলে পড়ে।

কেমন কাতর তার চাহনি!

বাবা! এলি? এত পরে এলি?

হ্যালোজেনগুলো জ্বলে ওঠে।

না, না, তুমি নও। তবে, অনেকটা ঠিক তোমার মতোই হবে।

চোখের ক্যাতরমাখা সন্ধেগুলো প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিতরন করে।

কারা আজ দেওয়াল লিখছে?

সঙ্গীত থেকে সমবেত উচ্চারন খুলে নিতে আসে কারা?

কারা লাশগুলো পর পর সাজিয়ে সাজিয়ে চলে যাচ্ছে?

কারা রাস্তার ওপর পাথর ফেলে বন্ধ করছে পথ?

জানি না... এরকম আরো অনেককিছুই

No comments:

Post a Comment

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল সহযোগি...