পঞ্চম পর্ব
[আগে যা ঘটেছে – ঝন্টু
দাস পলিসি বেচে খায়। বিয়ে হয় নি, একলা মানুষ। হঠাৎ দেখা গেল নানান বিলেতের বিখ্যাত
ভূতেরা তার সাথে কথা বলতে আগ্রহী। তারা তাকে নিজেদের মনের কথা জানাতে ব্যাকুল।
লেলিন থেকে মার্ক্স, ম্যালথাস থেকে এডমান্ড বার্ক, এমন
কি আন্তোনিও গ্রামসচ্চি তার সাথে গল্প করতে আগ্রহী। ভূতেদের মধ্যে নানান বিতর্ক, মারামারি।
বাকুনিন চাইছে মার্ক্সকে এক হাত দেখে নিতে। মার্ক্সের মেয়ে এলানর-এর সাথে ঝন্টুর
প্রেম জমে উঠেছে। সব মিলিয়ে ঝন্টু দাসের জীবন হটাত করে রঙিন হয়ে উঠেছে। তারপর…]
-
“আমার মূর্তিটা কবে হবে?”
করোনা যুগে আমার মত লাইফ ইন্সিওরেন্সের পলিসি বেচা পাবলিক
দের সময় ভালো যাচ্ছে। এদিকে আবার মার্কস সাহেবের মেয়ের সাথে ভৌতিক প্রেমটাও ভালো চলছে।
করোনার ভয়ে কেত মারা প্রেমিক প্রেমিকারা একে অপরকে মিট করতে পারছে না, কিন্তু আমার
কোন সমস্যা নেই। দিব্বি প্রেম চলছে। ভূতেরা তো করোনাকে ভয় পায় না, আর আমার বাড়িতে আসতেও
কোন অসুবিধা নেই। তাই আমি আর এলান্র দারুণ প্রেম করছি। মন মেজাজ একদম চাঙ্গা। লেকের
ধারে বসে আছি এলানর এর অপেক্ষায় কিন্তু তার মাঝে হটাত এই গলা। পিছন ফিরে দেখি এক গাট্টা-গোট্টা
সাহেব। আমি ভাবলাম এই মেরেছে, আবার কে এসে জুটলো রে ভাই। তারপর আবার একবার চাইলাম তার
দিকে। কোথায় যেন দেখেছি সাহেবকে কিন্তু নামটা মনে পড়ছে না।
-
“চিনতেই পারছো না তো?” সাহেব
বলল।
আমি বললাম, “এক বার দেখা হয়েছে মনে হচ্ছে কিন্তু নামটা
মনে নেই স্যার। পলিসি বেচার কাজে কত লোকের সাথে দেখা হয়। কিছু মনে করবেন না। আমি হলেম
গিয়ে পাতি পাবলিক।“
-
বেনিত্তো মুসোলিনি নামটা
জানা নেই নিশ্চই।
আমি একবার ঢোক গিললাম। না মানে সত্যি তো জানা নেই। এবার
কি করি? এই সময় এলানর এসে গেলে সুবিধা হত। ও সব জানে।
-
তা জানা থাকবে কেন?
গোটা দেশটা আমার কথা অনুযায়ি চলছে আর আমার নাম তোমরা জানো না। এই জন্যই তো বলছি
আমার মূর্তি টা কই? কত লোকের মূর্তি হচ্ছে, মন্দির হচ্ছে আর আমিই বাদ পড়ে গেলাম?
আমি আরো ঘাবড়ে গেলাম। বললাম, “স্যার, গোটা দেশ আপনার
কথায় চলছে? এ তো দারূণ ব্যাপার। আপনি নিশ্চই খুব খুশি?”
-
খুশি একদম নই তা বলতে
পারছি না। এই তো তোমাদের পণ্ডিত মানুষ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন যে তিনি আজকের ভারতে
আমার তৈরি ইটালিকে দেখতে পাচ্ছেন। মানে ফাসিস্ট ইটালি। তা ফাসিস্ট কথাটা শুনেছো তো
ঝন্টু বাবু? কিন্তু মুস্কিল ওই একটাই।
আমি
অবাক হয়ে বললাম, “স্যার, তাও আপনি খুশি নন?”
সাহেব
একটু গম্ভীর মুখ করে বলল, “খুশি হবো কি করে? আমার নামটাই তো কেউ জানে না। সেই
জন্যই তো বলছি মূর্তিটা কবে হবে? মূর্তিটা হলে লোকে
আমার নামটা জানবে, পূজো করবে, মিডিয়া কভারেজ হবে। তবে না আমি খুশি হবো”।
আমি
ভাবলাম সত্যি, সাহেবের খুব দুঃখ। আমি বললাম, “কিন্তু স্যার, আমি তো মূর্তি বানিয়ে
দিতে পারবো না। বড়জোর লোকাল কাউন্সেলারকে বলে দিতে পারি। কিন্তু তিনি কি বলবেন তা
তো আমার জানা নেই।
আজব
ব্যাপার। সাহেব বেজায় চটে গেলেন। আমার দিকে রক্ত চক্ষু দেখিয়ে বললেন, “চ্যাংড়ামো
হচ্ছে! লোকাল কাউন্সেলার আমার স্ট্যাচু বানাবে? স্ট্যাচু বানাতে হবে দিল্লিতে।
অন্তত ৫০০ ফিট উঁচু। সারা পৃথিবীর মিডিয়া দেখবে। তবে না হবে যোগ্য সম্মান। লোকে
মেনে নেবে যে আমিই শেষ কথা। ওসব তোমাদের মার্ক্স সাহেবদের জমানা শেষ হয়ে গেছে।
লাইব্রেরীতে গিয়ে বই লিখতে বলো”। এই দেশ, এই দুনিয়া এখন আমার হাতে”।
আমি
ভাবলাম এর তো নির্ঘাত রাচীর টিকিট দরকার। কিন্তু কাটাই কি করে? কপাল ভালো এই সময়
এলানর এসে গেল।
-“সরি
ডার্লিং, একটু দেরী হয়ে গেলো”।
আমি
বললাম, “আরে না না, আমি তো বেনিত্তো সাহেবের সাথে একটু গপ্পো করছিলাম”।
এলানর
তো বেনিত্তো সাহেবকে দেখে হাসতে শুরু করে দিল। বলল, “এই তুই এখানে কেন? মনে নেই
তোর শেষটা কিভাবে হয়েছিল? যা পালা!”
বেনিত্তো
সাহেব হটাত কেমন কাঁচুমাচু হয়ে গেল। বলল, “আমিও হাল ছাড়বো না। আমার মুর্তি হবেই।
৫০০ ফুট উঁচু”। বলেই সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
দারুণ দারুণ। সবকটা পর্বই দারুণ উপভোগ্য।
ReplyDelete