আঁচঃ এয়োনিয়ান অনির্বাণের ধারাবাহিক গদ্য





 গঞ্জের নাম শ্রেণী সংগ্রাম,মেয়েটির নাম কু...

 এই গঞ্জে মানুষ জন্মায় বড় হয় মারা যায় অনেক সময় মানুষ জন্মায় ,কিন্তু বড় হওয়ার আগেই মারা যায় যারা বেঁচে থাকে তারা বড় হয়, সবদিন না খেয়ে ,না ঘুমিয়ে, না হসপিটালে যেয়ে, না স্কুলে যেয়ে বড় হয় ভালোবাসে ফুল নদী নারী কে আবার জন্ম দেয় মানুষের সব জন্মই যে ভালোবাসার ফল তা নয়! মাঝে মাঝেই বড়লোক দের পোষা কিছু ডাকাত আসে এই গাঁয়ে ইনসাস আর . কে. ফর্টি সেভেন উঁচিয়ে কোনো এক "অনির্বচনীয় হুন্ডি "হাতে নিয়ে এরা দাবী করে অনেক কিছু "নারীকেও নিয়ে যায়"! ধর্ষণ হয়! ধর্ষণের পর জন্ম হয় আরও মানুষের জন্মের পর তারা অনেকেই বেড়ে ওঠার আগেই মারা যায় অনেকে বেড়ে ওঠে কু বেড়ে উঠছিল স্কুলেও যাচ্ছিল রাখী বন্ধন কি জিনিস কুজানতো না একদিন কিছু ডাকাত এলো স্কুলে "রক্ষাবন্ধন "পালন করতে ডাকাত এলো রক্ষক এর বেশ ধরে ডাকাত এলো ভাই এর বেশ ধরে যেদিন কু এর গাঁয়ে কিছু ডাকাত এসেছিল সেদিন কু ছিল না নইলে কু জানতে পারত ,ডাকাত রা প্রথমেই কু এর মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল তার বর ছেলে পুলে কোথায় ? অপুষ্ট বুক দেখিয়ে জানতে চেয়েছিল মা যদি তবে বুকে দুধ নেই কেন? তারপর বুক টিপে দেখেছিল দুধ বেরোচ্ছে কিনা ! কু বাড়িতে ছিল না কু দেখেনি রক্ষাবন্ধন এর দিন ডাকাত রা রক্ষক সেজে স্কুলে ঢোকে তারপর ঢোকে মেয়েদের বাথরুমে দু একজন ডাকাত কে পাহারায় রেখে বাকি কয়েকজন মেয়েদের টয়লেটে ঢোকে একই অনির্বচনীয় হুন্ডি হাতে কু কে জিজ্ঞাসা করে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে বোমা, কিংবা মাইন, কিংবা পেটো ? কু ঘাড় নাড়ে সুতরাং তল্লাশি অপুষ্ট মাংস খাবলে খুবলে তল্লাশি চলে ময়লা ছেঁড়া জামা কাপড় ছিঁড়ে তল্লাশি চলে ... কু কাঁদলেও তল্লাশি চলে...ভয়ে যন্ত্রনায় কুঁকড়ে গেলেও তল্লাশি চলে...কু এর চিৎকার কে অট্টহাস্যে চাপা দিয়ে তল্লাশি চলে...শরীর মনে অসহ্য যন্ত্রণা সত্বেও তল্লাশি.. শরীর আর মনে অনবদ্য বীভৎস পুলক নিয়ে তল্লাশি পরদিন শহরের বাবু রা আসে কু কে জিজ্ঞাসা করা হয় অনেক কিছু কু ওদের ভাষা বোঝেনা ওরাও কু এর ভাষা বোঝে না কু বেড়ে উঠছে কু রা বেড়ে উঠছে এত সব কিছুর পরেও শ্রেণী সংগ্রাম গঞ্জের কু রা বেড়ে উঠছিল তাই আবার ডাকাত এল ব্রাম্ভন ডাকাত উচু জাতের ডাকাতরা এলএল সেই অনিরবচনিয় হুন্ডী নিয়ে এল "সবক" শেখাতে তাই বাজরা ক্ষেতে কু এর শরীর খাবলানো হল আবার

খাবলানো,কামড়ানো,দোমড়ানোর পর বের হল ছুরিকু ভেবেছিল তার গলায় বসিয়ে দেওয়া হবে! কিন্তু না উচু জাতের ডাকাত রা ওকে বাচিয়ে রাখতে চায় যে! তবেই না ভয় বেচে থাকবে কু’’দের মনে, কুদের গ্রামে তাই, তাই কু এর জিভ টেনে ধরে জিভের এক প্রান্ত থেকে চালানো হল ছুরি কে না জানে ছোট্ট মেয়ের পাতলা জিভ কত সহজেই কেটে ফেলা যায়চিৎকার থেমে গেল! তবুও ইনসাস রাইফেল, আর ঘিরে থাকা ডাকাত দলের পাশবিক উল্লাস এর মাঝে থেকেই খেয়ে না খেয়ে ধর্ষিতা হয়ে কিংবা না হয়ে কু রা বেড়ে উঠবে কু রা লড়াইটা শিখে নেবেরামায়ণের সীতা-সুরপনখা পুরনো হোকনতুন করে ফুলন দেবীর গল্প শোনানো হোক

ছবিঃ অনুষ্টুপ লাই

1 comment:

  1. বিষাদে ভরে গেল মনটা। সহজ ভাষায় খুব সুন্দর লেখা। হৃদয় স্পর্শ করে গেল।

    ReplyDelete

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল সহযোগি...