কতটা পথ?
সারাদিনটা হাঁটতে
হাঁটতে ঠিক সন্ধ্যে হওয়ার মুখে ওরা পৌঁছল একটা শহর-মত জায়গায়। জায়গাটার নাম ধাম অত
ওরা জানে না। কত কত জায়গা পেরিয়ে যাচ্ছে, কত আর জানবে?
আজ দু-দিন হলো
রামচরণ আর ওর বউ ফুলি হাঁটছে। কোনভাবে যদি বাড়ি ফিরে যেতে পারে। আপন গাঁয়ে যদি
ফেরা যায়। লোকের বাড়িতে, দোকানে কাজ করবে দুজনেই। তবু আর জীবনে কখনও বাইরে কাজে
যাবে না।
হাঁটতে হাঁটতে এরকম
কতো গল্প করতে করতে চলছিল রামু আর ফুলি। ফুলিটার তিন মাসের পেট। চলতে খুব কষ্ট
হচ্ছে, রামচরণের কান্না পেয়ে যাচ্ছিল। তবু থামবার উপায় নেই। ওদের মতোই আরও হাজার
মানুষ হাঁটছে।
একটা জায়গায় এসে
হঠাৎ ফুলি ডাকলো,
-- এ জি,
শুনতে হো?
রামচরণ কিছুটা
এগিয়ে রয়েছে, ডাক শুনে বললো,
-- হাঁ বোল,
কা বাত হোই গওয়া? রুক্ কিঁউ গয়ি? দর্দ হো রাহা
হ্যায়?
-- আরে নেহি, ই জাগাঠো আপকো কুছ প্যাহ্চানা নেহি
লগ রাহা হ্যায়?
-- আরে, ইয়াহাঁ ক্যায়সে প্যাহ্চানা লাগেগা?
-- আরে, আপকো ইয়াদ নেহি? ই যোন রাস্তে পে হামলোগন
চল্ রহে হ্যায় ন, ই রাস্তা যব বন্ রাহা থা, তো হাম অউর আপ হিঁয়া কাম কিয়ে থে। উ লছ্মন
ভাই নে হামলোগোঁ কো রাস্তা বানানে কা কাম মে নেহি লাগায়া থা?
-- আরে হাঁ, ইয়েহি হ্যায় ওহ্ জাগা, নেহি? আরে
ফুলওয়া, তু তো বহুত কুছ ইয়াদ রখ্ সকত্ হ্যায়। বঢ়ি জোরদার হ্যায় তেরি ইয়াদাস্ত।
-- দেখিয়ে, ক্যায়সন মজে কি বাত হ্যায়। হাম হি
লোগ যো রাস্তা বানায়ে হ্যায়, আজ উসি পর পয়দল চল্ রহে হ্যায়।
-- তুঝে চলনে মে তকলিফ হো রাহা হ্যায়? তেরে পাও
মে তো ছালা পড়্ গওয়া হ্যায়। অউর থোড়া কষ্ট্ কর লে, বাস পঁহুছ্ হি গ্যয়ে সমঝ্।
একটা জায়গায় ফুলিকে
বসিয়ে রামচরণ কোথাও একটা গেছে। রাস্তায় অনেক লোক খাবার, জল, মুড়ি, সাবান--এইসব
দিচ্ছে। ফুলিকেও দিল। তারপর একটা সাদা জামা পরা লোক এল। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস।
এমন কাজ করলো লোকটা, ফুলির তো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল। লোকটা ফুলির
পা দুটো নিজের কোলে তুলে নিল। তারপর লাল ওষুধ, মলম এসব লাগিয়ে দিল। ফুলি কেঁদেই ফেলল। কিন্তু রামচরণ গেল
কোথায়?
এমন সময় আবছা আলোয়
রামচরনের গলা শুনতে পায় ফুলি। দেখে, সে একটা লোককে বলছে,
-- বাবু, আপসে এক বিনতি হ্যায় সাহেব, আপনা চপ্পল দে দো সাহেব। মেরা ফুলওয়া অউর চল্ নেহি সকতি। বাস্, চপ্পল দে দিজিয়ে, অউর কুছ নেহি চাহিয়ে।
ছবি: আশীষ নন্দী

No comments:
Post a Comment