কবি শম্ভু রক্ষিত: অচিন্ত্য মাজী

 




ঈশ্বরের কাছে রক্ষিত তার অস্তিত্বের রূপ

 

নৈপুণ্যের আকাশ থেকে প্রকৃতিরা অন্তর্হিত হয়ে যায়

সমস্যা প্রদক্ষিণ করে দুশো কোটি আলোকবর্ষ পর্যন্ত

তাই ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যের ইচ্ছা তাই ইন্দ্রলোকের উদ্ভাস অনুসরণ করিনি

মৃৎপাত্র, কুটীর, দুরবীক্ষণ সর্বত্র যেন আবিষ্কারের তুলনা

নক্ষত্রের প্রতিকৃতি তুমি, আমাকে ক্ষমা করো না         

 প্রিয় ধ্বনির জন্য কান্না, ১৪ সংখ্যক

শম্ভু রক্ষিতের কবিতা পড়তে গেলেই মনের ভেতরে এক ছমছমে শিহরণ ঘনিয়ে ওঠে। ভয়ও হয় এই বুঝি তার সামুদ্রিক বিশালতায় ডুবে যাব, হারিয়ে যাব আকাশের বিস্তারে। সত্যি কথা বলতে কি হারিয়েও যাই কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য ভালোলাগার টানে ঠিক ফিরে আসা যায়। কী এই ভালোলাগা? জ্ঞান, পাণ্ডিত্য মেধা? বুদ্ধিদীপ্ত প্রখরতা? মননের জটিল সুড়ঙ্গের বিস্তার? হয়তো সবই কিংবা কিছুই নয়। হয়তো টুকরো টুকরো সবকিছুই আলগা ভাবে লেপ্টে থাকে। আর এ সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে তাঁর কবিতায় রয়ে গেছে এক গভীর উপলব্ধির ঈশারা। অত্যন্ত দৃঢ় পর্যবেক্ষণ তাঁর। তাঁর দৃষ্টি পৃথিবীকে শুষে নিতে চায়, সবুজের রস থেকে ছেঁকে নেয় প্রাণের তরঙ্গ, দূর নক্ষত্র ও গ্রহপৃষ্ঠে পাড়ি দিয়ে তার মাটির আজনবী গন্ধকে চৈতন্যে নিক্ষেপ করে। এই হল শম্ভু রক্ষিত। তাঁর কবিতাকে বুঝব বললেই বোঝা যায় না এজন্য জানতে হয় আলিঙ্গন। কাঁটা ছেঁড়া করে তাকে পাওয়া যায় না তাকে পেতে হয় আত্মনিবেদনের ধর্মে। উপলব্ধির তীব্রতাই পারে তার কবিতার গোপন গিরিখাতে প্রবেশের পথ বাতলে দেওয়ার।

 

ব্যক্তি জীবনে শম্ভু রক্ষিত ছিলেন অত্যন্ত নির্ভিক, সৎ এবং আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। দারিদ্র ছিল তাঁর আজীবনের সঙ্গী। কিন্তু এতটুকু লোভী ছিলেন না, খুব অল্পেই সন্তুষ্ট হতেন। প্রথম জীবনে হাংরি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ‘ব্লুজ’ বলে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। পরে ‘মহাপৃথিবী’ নামে খুব উন্নত মানের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন বহুদিন। আজীবন তিনি কারো কাছে মাথা নত করেন নি। খ্যাতির জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে আত্মবিক্রয় করেন নি। তিনি জানতেন ছল আর কৌশল দ্বারা কালজয়ী হওয়া যায় না এর জন্য চাই সাধনা। তপস্যা।

 

আমরা ফিরে যাই উক্ত ১৪ নং কবিতাটিতে যেখানে কবি বলেছেন ‘নৈপুণ্যের আকাশ থেকে প্রকৃতিরা অন্তর্হিত হয়ে যায়’। হ্যা নৈপুণ্য ও কৌশলকে কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেন নি শম্ভু রক্ষিত। তিনি বিশুদ্ধ কবির জনকই হতে চেয়েছেন, গড়ে নিয়েছেন একেবারে আনকোরা নিজস্ব এক জগৎ। আসলে দৈনন্দিনের গড়পড়তা জীবনের একঘেয়েমি, মধ্যবিত্ত সুলভ সস্তা তৃপ্তি অতৃপ্তি, চাওয়া পাওয়ার জগৎ আর সাংসারিক গণ্ডি থেকে সরেই এসেছেন। চিৎকৃত বিপ্লবের ভরাট বুলিও তার কাব্যে নেই। লড়াই লড়াই করে হেদিয়ে মরেন নি। বরং তিনি সেই কবি যিনি বলতে পারেন ‘আমি সেই রঙ, পবিত্র গন্ধ যার ভেতর টলে যায়’। জীবনকে যখন খুব গভীরভাবে দেখা হয় তখন তার বৃহৎ বিশাল তরঙ্গগুলি পালকের মতো চোখের সামনে ভাসতে থাকে, অজস্র রঙের ঊর্ণা ছলকাতে থাকে রূপ থেকে অরূপে, বোধের ভেতরে নিয়ে আসে অপরূপ সূক্ষ্ম যন্ত্রণা। এই যন্ত্রণা একটু একটু করে চৈতন্যের আধারে সংলীন শুকনো পাপড়িগুলিকে খসিয়ে ফেলতে থাকে। তখন সংসারের দাপাদাপিগুলি নিষ্প্রভ হয়ে আসে, তার বোবা জঠরের তলে পুঞ্জীভুত অন্ধকার, তার বিরামহীন গর্জনের আড়ালে দহনের লোনা ধ্বনি। থিয়োডোর ডানটন বলেছেন দেখার দুটি স্তর- আপেক্ষিক দৃষ্টি আর শুদ্ধ দৃষ্টি। আপেক্ষিক দৃষ্টিতে আমরা জীবনকে আপাতভাবে দেখি। এই আপাতভাবে দেখার ফলে দৃষ্টি বস্তুটির চারপাশে ঘোরে কিন্তু বস্তুটির ভেতরে গিয়ে তাকে তছনছ করতে পারে না। এর ফলে বাহ্যিক ঘটনাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি স্বার্থ দ্বেষ ঈর্ষাগুলি খুব বড়ো হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু শুদ্ধ দৃষ্টি যথার্থভাবে বস্তুর মর্মে প্রবেশ করে তাকে বিশ্লেষণ করতে পারে এবং এইখানে রচনাকার অনেকটা আত্মবিস্মৃত হয়ে যান তখন তাঁর কাছে সাময়িকের টানাপোড়েন আর চঞ্চলতা কোনো বৃহত্তর গভীর বিন্দুর সাথে মিলিত হয়ে বিশাল জীবনের মানে খুঁজতে থাকে। তাঁর চৈতন্যে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামে কোটি কোটি বছর ধরে চংক্রমিত হতে থাকা জীবনের বিপর্যাস। গোধুলির লাল গুঁড়ো রঙে ভর দিয়ে তিনি হেঁটে যেতে পারেন পৃথুলাকার অন্ধিসন্ধি ভেঙে কোনো অদ্ভুত শঙ্খলাগা দ্বীপে যেখানে অনামী গাছের মোটা বাকলে কিম্ভুত জীবেরা মুঠো মুঠো সবুজ নিয়ে খেলা করছে। এ কিন্তু জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয় বরং জীবনকে বিপরীত অম্লমধুর প্রতিসাম্যে প্রতিস্থাপিত করে একটু ঝাঁঝিয়ে নেওয়া, তার নিবিড় তলে থিতিয়ে থাকা প্রজ্ঞার আলোটিকে নিভৃতে স্পর্শ করা। তাই শম্ভু রক্ষিত যতই উদ্ভট, এলোমেলো রহস্যময় কথা বলুন তার ভিত রয়ে গেছে জীবনকে আবিষ্কার করার ভিন্ন স্বরগ্রাম। বরং এই অপার্থিব অনুষঙ্গে সমগ্রতার সামঞ্জস্যই আবিষ্কৃত হয়। প্রকৃতির ভেতরে যে শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাহীনতার নিরন্তর বিবর্তন সাধিত হচ্ছে তারই ছাপ প্রস্ফুটিত হয়ে চলেছে মানব চৈতন্যের পরম্পরায়। গিলেজ দেলুজের অনুভবে কোনো অপরিমেয় উদ্দেশ্যের ইঙ্গিতে আমাদের মনে সংঘটিত হচ্ছে আশ্চর্য খেলার ঘোর, অজস্র রঙের বিচ্ছুরণে তোলপাড় করছে সত্তার তলদেশ। প্রকৃতির দোলাচলেই আছে অন্তর্লোকের নিষ্পেষণকে ব্যাখ্যা করার আয়োজন। লাঁকার মতে মানুষের মন একদিক থেকে স্থির সরলরৈখিক অবিভাজিত কিন্তু অবচেতনার প্রভাবে সমস্ত সাদামাটারেখাগুলি অচেনা ঘূর্ণনে বারবার টাল খেয়ে যায়। লাঁকার মতে এই ঘূর্ণনকে কোনোভাবেই বিশ্লেষণ করা যায় না তা দুর্জ্ঞেয়, রহস্যময়, জটিল, বহুবিভাজিত, রন্ধ্রময়। বহু রূপান্তরধর্মীতায় তা রঙ পরিবর্তন করছে সবসময়। চেতন বা কোনোখানেই মানুষীসত্তা তার নিজের প্রভাব খাটাতে পারে না বরং প্রভাবহীন কোনো আলগা মন্থনে মানুষের মন সততই ক্রিয়াশীল। হেগেলও বিশ্লেষণ করে দেখান মানুষের মনের দুর্জ্ঞেয় প্রবৃত্তি এবং সত্তার বহু বিজারণ মানুষের সচেতন মন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও তা প্রায়শই বিধ্বস্ত হয়।

 

শম্ভু রক্ষিতের কবিতায় আমরা দেখতে পাই প্রচলিত কৌশলগুলিকে ধ্বস্ত করে দেওয়ার শক্তি। এমন এক আনকোরা অনুভব পাই যা চৈতন্যের অন্তর্গত ঝঞ্ঝায় বিজারিত হয়ে জমাটবাঁধা সংগ্রথিত অধিবিদ্যার পারম্পর্যগুলিকে টুকরো টুকরো করে দিতে চায়। ভাষার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অজস্র ফাঁদের গহ্বরে প্রবেশ করে এ যাবৎকাল ধরে চলতে থাকা আলোছায়ার লুকোচুরিগুলিকে নস্যাৎ করে দেন। শম্ভু রক্ষিত আঘাত হানেন সেইসব মেটান্যারেটিভগুলিকে যা আমাদের চিন্তাকে একরৈখিক আধারে যেতে বাধ্য করে বারবার, আমাদের মননে এমন এক শৃঙ্খল পরিয়ে দেয় যা আমাদেরকে করে তোলে শিথিল পর্যুদস্ত। শম্ভু রক্ষিতের কবিতা তাই বহুস্তরিয় বহুবর্ণময় বহুবিভাজিত বহুকোষীয়। শব্দ আর চৈতন্যের জটিল সংস্রবে গড়ে ওঠে এমন এক দ্রবণ যার ভেতরে প্রতিফলিত হতে থাকে দেশ কাল সমাজ রাষ্টনীতি মানুষ অতীত ঐতিহ্য সংস্কৃতি মিথ পুরাণ ভুগোল মহাবিশ্ব। অধিবিদ্যার নানারূপী অবতার আমাদেরকে জাদুকরের মতোই আশ্চর্য কুহকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সংরচিত ছলের কারাগারে। আলংকারিক এই অত্যাচারগুলিকে আমরা বুঝতেই পারি না। এই অদৃশ্য পরাক্রমী ফোঁসকে কবি চাবুকে নেতিয়ে তোলেন চেনা অন্ধকূপ থেকে বেরিয়ে এসে স্বয়ং সম্পূর্ণ জগৎ নির্মাণের মধ্য দিয়ে।

শম্ভু রক্ষিতের কবিতা পড়তে পড়তে আমরা চলে যাই হেগেল, নীৎসে, হাইদেগার বা দেরিদার জগতে। আরোপিত চশমা ভেঙে যাঁরা জীবনকে জগৎকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছেন। হাইদেগারের মতো করে সত্তার একেবারে গভীর বিশুদ্ধ পরম বিন্দুটির উৎসমুখে পৌঁছে যেতে চেয়েছেন, সেই সত্তা যা বাইরের রূপান্তর ও রহস্যে নিষিক্ত হয়েও অবিচল থাকতে পারে কোনো আগ্নেয় স্পর্ধায়। কবিতার ভাষা সেই ভাষা যার মধ্য দিয়ে এক অনালোকিত অনাবিষ্কৃত দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াত সম্ভব হয়, পৌঁছানো যায় সেই চূড়ান্ত শিখরটিতে যেখানে অমোঘ রক্ত প্রবাল গাঢ় বিচ্ছুরণে মুক্তির পিপাসায় কাতর। এজন্যই শম্ভু রক্ষিতের কবিতায় কেউ যদি তন্ন তন্ন করে মানে খোঁজেন তাহলে তাকে হতাশ হতে হবে। বিশেষ অর্থ নয়, কোনো একচেটিয়া সামাজিক রাজনৈতিক জিজ্ঞাসা নয়, কোনো বক্তব্যও নয় তাঁর কবিতা এ সমস্ত কিছু শোষণ করে পৌরূষের তীব্র লালনে মুক্তির গন্ধে ভরিয়ে দেয় মানবের পীড়িত চৈতন্য, রহস্যের দৃশ্যময় বাতাবরণ তৈরি করে অনুভবের ভিন্ন আয়োজনে জীবনের তলদেশের ধাতব কর্কশ পাটাতনকে যেমন ফুটিয়ে তোলে তেমনি সেই অনুর্বর অঞ্চলটিকে তড়িতের আচানক চমকে নিষ্পেষিত করে খণ্ড খণ্ড কোষগুলিকে উর্বর করে তোলে। এই তড়িৎ হল আঁতের গোপন অন্তঃসার যা চিনতে শেখায় জড়ের ভেতরের উষ্ণ সারাৎসার, কাষ্ঠল চৌহদ্দির পরিখায় অচেনা ঝাঁঝ। কবির লক্ষ্য ঐ দূরপনেয় রঙটিকে মুঠোবন্দী করে তার ভেজা শিহরণকে মননের মর্মমূলে গেঁথে দেওয়া। স্বেচ্ছাচারী, মননহীন, অচিন্তক কোনো অচলায়তন যখন বহুযুগের পাথুরীভূত অভ্যাসে কঠিন শিলার মতো জমাট বাঁধে তখন এমন একটি সংঘর্ষের প্রয়োজন হয়  যা যুক্তিপরম্পরাহীন অলৌকিক আধিদৈবিক এবং শেষ পর্যন্ত যা থেকে প্রতিকায়িত হয়ে ওঠে জীবনের সার্বভৌম সামগ্রিক অন্বয়-

তুমি যেই তোমার পাথর, রহস্য-শ্রম দিয়ে চলে গেলে, পীযুষ জলে

আমার সকল মাণিক হারালাম আমি, বহুদূর সমূদ্রে চলে গিয়ে কেঁপে উঠলাম

এখন আমার প্রেম পদ্মরাগমণি-ব্যাধির মতন। সারদার প্রাসাদের

তোরণ খুলে আজ যে শান্তি প্রার্থনা করছি তা খ্রিস্টীয়-বন্ধনমন্ত্র নিয়ে

ধনুকের মতো ভেসে চলে যায়। ওহে প্রেম, নিষ্করুণ পাখি

ক্ষমতা হারিয়ে যখন ফিরে যেতে চেয়েছি তোমাদের কাছে

বেদনার- বীণা তখন পর্যেষণ করে রাখো ঘুমন্ত সমাধির জলে

 হায়, সন্ধি করলে দেখি অকুল রৌদ্র ছায়ায় পৃথিবীর রোমক প্রান্তর

সমর্থ গাছপালা যন্ত্রণার আর্ত দৃষ্টিপাতের নীচে অন্তর্গত, সঞ্চারিত                  

                                                                            ঐ, ৬৩ নং

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এক প্রবন্ধে বলেছিলেন ‘কলাকৌশল চারিত্র্যের আর রূপ ব্যক্তিস্বরূপের অভব্যক্তি’। প্রতিবেশের শাসন আর কুলসংক্রমণে এই চারিত্র্য প্রস্ফুটিত হয় অপরদিকে রূপ হল আত্মজিজ্ঞাসার দান। শম্ভু রক্ষিতের কবিতায় দেখা যায় এ দুয়ের আশ্চর্য মিলন। কবির ব্যক্তিস্বরূপের সুগভীর আকুলতা কলাকৃতির অপরূপ স্থাপত্যে বিলীন হয়ে আশ্চর্য আভা ফুটিয়ে তুলেছে যে আভার ভেতর নতজানু হয়ে আছে ধ্যান তপস্যা শুশ্রুষা যে দ্যুতির ভেতর মগ্ন হয়ে আছে সন্ধান শান্তি সংযম। কবির ব্যক্তিস্বরূপ অভিজ্ঞতাময় জীবনের খরমাটিতে নিষিক্ত হয়ে কোনো মহাপ্রাণের অন্বেষণে ছুটে চলেছে অজানার দিকে।


ছবিঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা (অনলাইন সংস্করণ) থেকে সংগৃহীত

4 comments:

  1. চমৎকার লেখা। অত্যন্ত স়ংবেদনশীল।

    ReplyDelete
  2. দারুণ একটা লেখা। ভালো লাগলো অচিন্ত্য দা। ভালো থেকো।

    ReplyDelete
  3. বেশ ভালো লেখা।

    ReplyDelete

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল সহযোগি...