কবিতাঃ মানস মজুমদার

 

তাকে ঠেলে দিতে থাকে

কথা শুনে হাস্য করে উঠলেন তিনি।

হাসির ধমকে বুকের মধ্যে

পাক খেতে খেতে

উপমা ছুঁড়ে দিলেন কয়েক।

আর তখন হঠাৎ অযাচিত সহাবস্থানের কথা মনে করে,

ধারাপাত নিয়ে বসে গেলেন নামতা পড়াতে।

আমি বুঝলাম,তিনিও বুঝলেন,

কলসির জল কানা উপচে পরে গেছে মাটির ধুলোয়।

 

দু চোখে পড়ন্ত বিকেলের শোক

তাকে ঠেলে দিতে থাকে এক শূন্য মোছার তাগিদে।

 

সুতো ছুঁড়ে দিয়েছে

 এই দেখো,গতকাল লিখেছি রাত্তিরে

উড়ে যাওয়া পাতার ভিতর

 

তখন বাতাস বইছিলো

খোলা ছিল জানালা দরোজা

আর শব্দের পরকীয়া নিয়ে কী ভীষণ তালগোল,

আমাকে ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল ওই মেয়ে

প্রতিহত করে ফেলেছিলাম নিজের তালুকে

আমি।

 

তার ছিল ভিন্ন বাড়ি,ভিন্ন ঘর,

ছিল ভিন্ন দুয়ার,ছিল আলাদা সদর

বৃষ্টি হলে চৌকাঠ ছাড়িয়ে ওই মেয়ে

নেমে আসতো নিজের উঠোনে,

তখন আমার কী হয়রানি খেলা গো,

ভাঙা দরোজার ফুটো দিয়ে খোঁজ আর খোঁজ,

পিছল হয়ে যেতো চোখের দিশা।

 

সপসপে ভিজে আদুরে  গা

পা ফেলে ফেলে হেঁটে আসতো ওই মেয়ে

আমার ঘরের কাছে স্থির,

ভাঙা দরোজা খুলে দেখতাম হঠাৎ সাজিয়ে

সুতো ছুঁড়ে দিয়েছে ওই মেয়ে কবিতার বিভায়।

 

বিন্দু খোঁজার জন্য

 শোনো বাছা,

পশ্চাৎ না ভেবে দেখো সন্মুখে,

হাঁটার জন্য পায়ের গতি বাড়াও,

তখন দেখবে দৌড়াচ্ছ তুমি

 

কাজ পড়ে আছে তোমার

নানাবিধ কাজ

সুখ এবং দুঃখের জন্য অসংখ্য কাজ

গুছিয়ে ফেলতে হবে এখন

সময় বড় অল্প তোমার হাতে

 

দীর্ঘসূত্রিতা কাউকে মানায় না কখনো

ভাবনা তথায় শীর্ণ হয়ে যায় ,

ঘাটতি দেখা দেবে নিঃশ্বাসের ভিতরে,

তখন কারো ডাকাডাকি থাকে না,কারো হাঁকাহাঁকি থাকে না,

পশ্চাৎ সন্মুখ তোমার একার।

 

হয়তো দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে একদিন,

হয়তো দরোজায় ঝুলানো হবে তালা,

তখন কতগুলি ভ্রষ্ট উপদ্রব জীবনের জোড় মেলাবার তাগিদে

বাইরে থেকে তোমার ভবিতব্য নিয়ে নাড়াঘাঁটা করবে

অতি মোলায়েম

 

তখন তোমার না থাকবে সন্মুখ,না থাকবে পশ্চাৎ

বিন্দু খোঁজার জন্য

No comments:

Post a Comment

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল সহযোগি...