আমাদের কথা: মাভৈঃ নিষাদ

 


কোন মহাভারত দিয়ে গেলে প্রভু! কোন মহান ভারত? মিথ্যা ছিল কি তবে সে আশ্বাস? সেই ধর্মবাণী?নাকি তুমিও সমস্ত ফুলের ঘ্রান চেখে দেখেও মাংস রান্নার গন্ধই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসো ? কথা ছিল , আশ্বাস ছিল মহাকাব্যের মত অপরূপ দৃশ্য রচনার। কথা ছিপ অবর্ণনীয় সুন্দর ভাবে দুঃশাসনের বুক চিরে সুস্বাদু উষ্ণ রক্ত পান করার। কথা ছিল শ্যাম্পেনের ফোয়ারার মত দুঃশাসনের রক্তে ভারতী নারীরা তাদের চুল ভেজাবে! কোন ছলনা প্রভু ? নাকি তুমিও ভোটবাজি শিখে নিলে ?

 

চেয়ে দেখো প্রভু,

পৃথিবীর সমস্ত জলীয় কান্না যখন বাষ্পীভূত হয়ে স্বর্গের দিকে উঠে যায় তখন সবটা উঠে যায়না। কিছু কান্না বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে, কিছু কান্না গ্লেসিয়ারের মত জমাট বেঁধে জন্ম দেয় কান্নার নদী। আর কিছু কান্না ঢের কান্না নষ্ট হয়ে গেছে জেনেও পৃথিবীর গভীর গভীরতর গহ্বরে জমা হয়।জমে থাকে। অপেক্ষা করে লাভার স্রোত হয়ে একদিন ভিসুবিয়াসের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে বলে।

হায় ইচ্ছা,হায় ধর্ম, হায় হাসি। কোন প্রাণ ? আত্মধিক্কার আর আত্মগ্লানির চাবুক আর এক আকাশ অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়না!



  হে প্রভু আদেশ দাও দাসেরে। খুলে দাও এরিনা। বাজরার ক্ষেতের প্রতিটি বাজরার গাছ থেকে বল্লম বানাবো আমরা। প্রতিটি ছিঁড়ে নেওয়া জিভ এম্পিথিয়েটারে দাঁড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করবে সজোরে- "যদা যদা হি ধর্মস্য..." লক্ষ লক্ষ না শোনা চিৎকার দৈববানী মত মুখরিত করবে বাতাস। অন্ধরাজার স্নেহের পুত্র দুঃশাসনের , মানে প্রতিটি দুঃশাসনের রক্তপান উদযাপিত হবে উৎসবের মত। ভারতবর্ষের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি বৃক্ষে, প্রতিটি শহরের প্রতিটি মোড়ে,ল্যাম্প-পোস্টে সুন্দরভাবে ঝুলবে বুকফাঁড়া দুঃশাসনদের শরীর।

আহ, ফুল ফুটুক নাইবা ফুটুক সেই দিন বসন্ত !

তারপর ? তারপর কোনো এক নিষাদের বাচ্চা , ছোটজাত নিষাদের বাচ্চা কুড়িয়ে পাবে লোহা সেই লোহাকে আগুনে গলিয়ে বানাবে ঘাতক অস্ত্র। আদিম সাম্যবাদী মানুষের মত। একদিন সেই অস্ত্র ঠিক খুঁজে নেবে তোমার শরীর।

প্রথম ছবিঃ অনুষ্টুপ লাই

দ্বিতীয় ছবিঃ গুগল থেকে সংগৃহীত

2 comments:

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল সহযোগি...