পরবাসী
কোন মানবের পথে পিষে যাওয়া ধুলার অন্ন মাখি
পথে ঘাটে আমি তৃষ্ণা মেটাই - উড়ে চলে যাই, উন্মনা মনে পরবাসী সেই পাখি ।কোন বনপথে হেঁটে চলি আজো
বাজিয়ে বিরাগের ভাঙা সুর
কার গলা শুনে গাছের তলায়, একটু জিরাই
শুকনো অশ্রুর ফাঁক দিয়ে দেখি, রোদে সেঁকা প্রান্তর পারে, পথ বাকি বহুদূর ।
সে যেন সেথায়, পুকুর পাড়ায়, চেয়ে বসে জলপানে
গুন্ গুন্ গানে মনকে ভোলায়, দোলায় স্মৃতির টানে
গাংচিল তুই নিয়ে ভেসেযারে ভুলে যাওয়া সেই কথা
আজ সেথা কাঁপে, পূর্ণিমা চাঁদে ছায়া ভেজা জলে, ঝরা পাতাদের ব্যাথা ।
পরিযায়ী ট্রেনের ছড়া
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক - রেল গাড়ি চলে ঠিক,
খোকা খুকি কোলে বসে হাসে যেন ফিক ফিক,
নস্যি তামাকু আর গুটকা পানের পিক
তেলচিটে টাক মাথা জানলায় চিক চিক,
কবি নেই, নবী নেই, আর নেই ডাক্তার
অফিসের বাবু নেই, নেই কোনো মোক্তার,
আছে শুধু শত শত হৃদয়ের স্পন্দন
ধক ধক ধক ধক - আশংকা ঢাকা মন,
পরাজিত মানবের প্রতারিত অধিকার
সমাহিত শ্রমিকের ক্ষুধার্ত পরিবার,
ঘামে মাখা মাথা গুলো দেহ থেকে ঝুলছে
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক - রেল গাড়ি চলছে ।
ঘর মাঠ খেত হাট বন মেঘ দাপিয়ে
ইঞ্জিন ধেয়ে যায় শহরকে কাঁপিয়ে,
ছেলে গুলো গুঁতো খেয়ে দরজায় ঝুলছে
বুড়ো বুড়ি চোখ বুঁদে দিন ক্ষণ গুনছে,
গরমে গুমোট হাওয়া অবসাদ কামরায়
তেষ্টায় গলা জমে পেটে ক্ষুধা কামড়ায়,
খোকার কান্না মিশে ইঞ্জিনে হুইসিল
কাঁপছে দরজাগুলো, কাঁপছে বাবার দিল,
লাল লাল চোখগুলো লাগে যেন ফ্যাকাশে
শিশু চেয়ে মা কে দেখে, মার চোখ আকাশে,
টিম টিম সলতেটা নিভে নিভে জ্বলছে -
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক - গাড়ি তবু চলছে ।
দুঃস্বপ্নের গাড়ি ছোটে অক্লান্ত
নগর মাড়িয়ে যায় চিরে পথ প্রান্ত,
সারি সারি কামরা ডাঁয়ে বাঁয়ে ঝুঁকছে
ভিতরে হাজার দেহ ধুক ধুক ধুঁকছে,
পৌঁছাবে গ্রামে দেশে কোনো এক সকালে
শরীরটা টানবেকি অনাহারে ধকলে ?
উঠানে কাঁসার থালে চাপাটি গরম ডাল
দাদা মাসি বন্ধুরা বাবা মা খুদের পাল -
মন উড়ে যায় সেথা শরীরকে ছাপিয়ে
আধবোজা চোখ দূরে একমনে তাকিয়ে ,
ঐ দূরে রাঙা মেঘে পরিযায়ী সূর্যটা ডুবলো
No comments:
Post a Comment